বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:২৪ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজঃ
ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শনাক্তে আবেদনের পাহাড়’ এবারের হানিফ সংকেতের ইত্যাদি অনুষ্ঠান হচ্ছে মৌলভীবাজার জেলা নিয়ে ভারত বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : প্রণয় ভার্মা চরমহল্লা পিস এসোসিয়েশন কর্তৃক ৪র্থ শ্রেনীর বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত সিলেট সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন নবনির্বাচিত মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী মুজিবনগর সরকার গঠন ও স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র মূলত আন্তর্জাতিক মহলে স্বাধীন বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ বহিঃপ্রকাশ – তারেক শামস খান হিমু বরগুনা জেলার উদ্যোগে ইফতার পার্টির আয়োজন করেন টেকনাফের নাজির পাড়া সীমান্ত থেকে এক লক্ষ ইয়াবা উদ্ধার স্বাধীনতা দিবসে বঙ্গভবনের সংবর্ধনায় ভুটানের রাজা ও রানি
ঘোষণা:

মুজিবনগর সরকার গঠন ও স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র মূলত আন্তর্জাতিক মহলে স্বাধীন বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ বহিঃপ্রকাশ – তারেক শামস খান হিমু

আলিজা বিনতে আশরাফ, স্টাফ রিপোর্টার: আজ ১০ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর সরকার ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র দিবস। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের আজকের দিনে গঠিত হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার। যেটি প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার বা মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত। ২৫ মার্চ ভয়াল কালরাত্রিতে পাকিস্তানী হায়েনাদের নির্বিচারে গণহত্যা ও ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার পর বাংলাদেশ বহির্বিশ্বের কাছে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিল।

তাই আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে স্বাধীন বাংলার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং মুজিবনগর সরকারের সকল সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করলেন দক্ষিণ টাঙ্গাইলের আওয়ামী রাজনীতির অন্যতম প্রাণপুরুষ, নাগরপুর দেলদুয়ারের গণমানুষের নেতা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ টাঙ্গাইল জেলা শাখার সংগ্রামী সহ-সভাপতি জননেতা তারেক শামস খান হিমু

এ বিষয়ে জননেতা তারেক শামস খান হিমু গণমাধ্যমকে বলেন- মুজিবনগর সরকার গঠন ও স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র মূলত আন্তর্জাতিক মহলে স্বাধীন বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ বহিঃপ্রকাশ।

স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার মাত্র ১৫ দিনের মাথায় বাংলাদেশ সরকার গঠন হবে তা পাকিস্তানিদের কাছে ছিল অকল্পনীয়। কিন্তু দুর্দান্ত প্রতাপে ঘুরে দাঁড়ায় স্বাধীন বাংলাদেশ। গঠন করা হয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ অস্থায়ী সরকার বা মুজিবনগর সরকার। এই অস্থায়ী সরকার গঠনের মধ্য দিয়েই পরিকল্পিত পন্থায় মুক্তিবাহিনীকে সংগঠিত ও সমন্বয় সাধন করে পাকিস্তানি হায়েনাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ পরিচালনা ও স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায় করেছিল মুজিব নগর সরকার।

১০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপ্রধান ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক করে সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ঘোষণা করা হয়। এই সরকার সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপ্রধান এবং বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে তাকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধান ও সশস্ত্র বাহিনীর অস্থায়ী সর্বাধিনায়ক নির্বাচিত করে। তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী,ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীকে অর্থমন্ত্রী, এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে স্বরাষ্ট্র, কৃষি, ত্রাণ এবং পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ গঠন করা হয়।

স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছিল বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্তের এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে বাস্তবায়নের। প্রথমে ১৯৭০ এর নির্বাচনে জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ৩ মার্চে জাতীয় পরিষদ বৈঠক অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা। ২৫ মার্চ থেকে নির্বিচারে গণহত্যা ও বঙ্গবন্ধু কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণা এবং জনপ্রতিনিধিদের গণপরিষদ গঠন এবং জনগণের সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করতে সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী রূপে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা ঘোষণা, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা দৃঢ় সমর্থন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি এবং সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ, জাতিসংঘের সনদ মেনে চলার প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হয়েছিল। এই ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছিল, স্বাধীনতার এই ঘোষণাপত্র ৭১ এর ২৬ মার্চ তারিখ থেকে কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি ও উপ-রাষ্ট্রপতির শপথ পরিচালনার জন্য অধ্যাপক ইউসুফ আলীকে প্রতিনিধি নিয়োগ করার কথা বলা হয়।

১০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন অধ্যাপক এম ইউসুফ আলী। এই ঘোষণাপত্রে বাংলাদেশের মুক্তির জন্য যা যা করণীয় তা করবে বাংলাদেশ সরকার সেই ঘোষণাও দেয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে এই ঘোষণাপত্র কার্যত মুজিবনগর সরকার কর্তৃক অলিখিত সংবিধান ছিল।

তাই আজকের এই দিনে আমি আবারো টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ হতে স্বাধীন বাংলার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং মুজিবনগর সরকারের সকল সদস্যদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা এবং দেশের প্রতি তাদের এই আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ হয়ে তরুণ প্রজন্ম সহ সকলকে একটি সুন্দর ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার উদাত্ত আহবান জানাই।



ফেসবুক পেইজ